ঢাকা,
মেনু |||

মনপুরায় হাসপাতালে মৃত রোগীর ছেলেকে মারধর করেছে ডাক্তার; উত্তেজনা

সীমান্ত হেলাল, মনপুরা (ভোলা) থেকে ॥
ভোলার মনপুরায় মৃত রোগীর ছেলেকে মারধর করেছে সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার। রোববার বেলা ১১ টায় উপজেলা সদর হাসাপাতালে চকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর এক ঘন্টা পরও স্যালাইন ও হাতে লাগানো ক্যানোলা না খোলাকে কেন্দ্র করে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মৃত ব্যক্তি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় হাজীর হাট ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শাহরিয়ার দ্বীপক চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৮টায় উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের দাসের হাট গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হানিফ (৬০) নামক এক ব্যক্তি অসুস্থ্য হয়ে পরলে তার স্বজনরা তাকে মনপুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত ডাক্তার শিপন চন্দ্র পাল রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগীকে চিকিৎসা দেন। রোগীকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়ার কিছুক্ষন পর রোগীর মৃত্যু ঘটে। ডাক্তারকে জানালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

মৃত ঘোষনার পর খবর পেয়ে মৃতের আত্মীয় স্বজন হাসপাতালে আসতে শুরু করে। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদেরকে বহুবার বললেও মৃত্যুর ১ ঘন্টা পরও নার্সরা স্যালাইন ও ক্যানোলা খুলে দেননি। নার্সরা স্যালাইন ও ক্যানোলা না খুলে ডিউটি রুমে বসে মোবাইলে গেমস খেলা, কথাবলা, চ্যাটিং করা ও গল্পগুজবে ব্যস্ত ছিলেন।

 

রোগীর মৃত্যু এবং স্যালাইন ও ক্যানোলা না খোলাকে কেন্দ্র করে মৃতের স্বজন ও ডাক্তাররা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ডেন্টিস্ট) মোঃ সাব্বির হোসেন মৃতের ছেলে জামাল (২৫) ও ভাগিনা ফারুককে (৩০) মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন মৃতের স্বজনরা।

উক্ত মারধরের ঘটনায় মৃতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় হাজীর হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার দ্বীপক চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 

এব্যাপারে মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উিউটি অফিসার শিপন চন্দ্র পাল জানান, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষার করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রোগীর অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হতো। রোগীকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়ার কিছুক্ষন পর রোগীর মৃত্যু ঘটে।

 

মৃতের ছেলেকে মারধর ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনার সম্পর্কে অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ডেন্টিস্ট) মোঃ সাব্বির হোসেন জানান, আমি রুমে রোগী দেখছিলাম। মৃতের স্বজনরা উত্তেজিত অবস্থায় স্যালাইন ও ক্যানোলা খুলে দেয়ার কথা বলছিলো। আমি তাদেরকে বলেছি যে, কর্তব্যরত নার্সদেরকে স্যালাইন ও ক্যানোলা খুলে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার গায়ের দিকে তেড়ে আসে। তখন আমি তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।

 

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আমি অফিসের কাজে ঢাকায় আছি। বিষয়টি আমি শুনেছি। আগামীকাল আমি মনপুরায় ফিরবো। বিষয়টি পর্যবেক্ষন করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


রজনী

Copyright © BY BanglaNews21.Com
Desing & Developed BY Engineer BD Network